1. admin@dailyoporadhonusondhanltd.net : admin :
শিরোনামঃ
র‌্যাব-৭,চট্রগ্রাম’র অভিযানে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় “যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত” আসামি মোঃ সুমন গ্রেফতার।  বাঘায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত এক ,গুরুতর আহত দুই। আমতলীতে হিরন হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন মৃধা গ্রেপ্তার  সাজেকে কাচালং নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বিঝু উৎসবের সুচনা পুলিশি তৎপরতা ও আন্তরিক ভূমিকায় মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) মহিলার বাচ্চা প্রসবে সহযোগিতা । ভোটারদের টাকা দিতে বাঁধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে চেয়ারম্যান সমর্থককে হত্যা। শেরপুর পুলিশ লাইন্সে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত শিকড় ঝিনাইগাতীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সেবক, কামরুজ্জামান (বাবলু কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির (সদস্য) জামালপুরের সানন্দবাড়ীতে অসকস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী উপহার হতদরিদ্রদের

  • আপডেট সময়ঃ সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০২৩
  • ১১৭ জন দেখেছেন

এমএলএম এমটিএফই’র ফাঁদ : উপাধ্যক্ষ অসীমের প্রতারণায় ‘নিঃস্ব’ মুকসুদপুরের অসংখ্য মানুষ

ক্রাইম রিপোর্টার:-.

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কলিগ্রাম বঙ্গরত্ন মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ অসীম বাড়ৈ, সহকারী অধ্যাপক শ.ম নাসির হাওলাদার ও ল্যাব সহকারী প্রাণজয় বালার মাধ্যমে খুব গোপনে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে দুবাইয়ের অ্যাপ মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এমটিএফই)।

মুকসুদপুরে অতি মুনাফার ফাঁদে ফেলে এসব টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভুক্তভোগীর সংখ্যা শতাধিকের উপরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে হাতিয়ার বানিয়ে কলিগ্রাম বঙ্গরত্ন মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ অসীম বাড়ৈ, সহকারী অধ্যাপক শ.ম নাসির ও ল্যাব সহকারী প্রাণজয় মানুষের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকা এমটিএফই ব্যবসায় বিনিয়োগ করিয়েছেন। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থেকে তারা বুঝে নিয়েছেন লাভের বড় একটি অংশ।

এমটিএফই ব্যবসায় প্রতারিত হয়েছেন এমন অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমটিএফই হচ্ছে অনলাইনে বিনিয়োগের একটি প্ল্যাটফর্ম। এই চক্রটি অল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে এবং শিক্ষকতার সুযোগে মানুষকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করেছিলো।

গত ২/৩দিন আগে বিনিয়োগের লভ্যাংশের টাকা তোলার সময় হয়ে এলে দেখা যায় সফটওয়্যার আপডেট চলছে, এখন সার্ভারে সমস্যা হচ্ছে, ট্রানজেকশন করা যাচ্ছে না ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা দেখায়। পরে দেখা যায় অটো ট্রেড নামক একটি অপশনের কারণে পুরো ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যায়।

এমটিএফই’র প্রতারণা নিয়ে দৈনিক অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকার অনুসন্ধানে উঠে আসে এসব তথ্য।

জনমনে প্রশ্ন, কিভাবে একটি কলেজের অধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক ও ল্যাব সহকারী হয়ে অসীম, নাসির ও প্রাণজয়েরা অবৈধ বিদেশি অ্যাপে মানুষকে বিনিয়োগের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিলো?

যার ফলে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিদেশি অ্যাপসের ফাঁদে অনলাইনে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়েছে এই উপজেলার মানুষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভনে পড়ে আমরা অসীম স্যার, নাসির স্যার আর প্রাণজয় স্যারের কথা মতো এমটিএফই বিনিয়োগ করি। কিন্তু বিনিয়োগের পরই প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে গেছে। আমরা এখন দিশেহারা। আমরা আমাদের কষ্টে অর্জিত টাকা ও সেই সাথে শিক্ষকতার মুখোশের আড়ালে থাকা এই তিন স্যারের বিচার চাই।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী ঐপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী রাসেল মুন্সি জানান, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। দেশে এসে মুদি মালের ব্যবসার পাশাপাশি অন্য কোনো ব্যবসা করার চিন্তা করেছিলাম। এরই মাঝে নাসির স্যার আর প্রাণজয় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগ করতে বলে। রাজি না হলে ইমোশনাল কথা বলে বিনিয়োগ করিয়ে আজ আমাকে সর্বস্বান্ত করেছে। আমার কষ্টের টাকা ফেরত চাই এবং এই মহান পেশাকে কলঙ্কিত করা তিন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

জলিরপাড়ের বনগ্রাম বাজারের ভুক্তভোগী মুদি দোকানদার সেতু সরকার বলেন, আমাদের এই বাজারের প্রায় মানুষই লেখা-পড়া জানে না। তারা শিক্ষকদের গুনী মানুষ হিসেবে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে। সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে এই ব্যবসায়ীদের পথে নামিয়ে দিয়েছে। আমরা এখন পথের ফকির হয়ে গিয়েছে। আইনের আওতায় এনে এই শিক্ষকদের বিচার করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এছাড়াও অরজিৎ, বাপ্পি, কাকন সরকার, পলাশ, অনাদি বাড়ৈ, জসিমউদদীন শেখসহ শতাধিক ভুক্তভোগী তাদের বিনিয়োগের টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে। সেই সাথে শিক্ষকতার আড়ালে থাকা উপাধ্যক্ষ অসীম বাড়ৈ, সহকারী শ.ম নাসির হাওলাদার ও ল্যাব সহকারী প্রাণজয় বালার বিচার চায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপাধ্যক্ষ অসীম বাড়ৈ ও সহকারী অধ্যাপক শ.ম নাসির হাওলাদার জানান, আমরা ঐ কোম্পানির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। তবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় মিটিং হলে দাওয়াত দিয়েছে। দাওয়াতে অতিথি হিসেবে অংশ গ্রহণ করেছি।

এদিকে আরেক অভিযুক্ত ল্যাব সহকারী প্রাণজয় বালার সাথে বার বার যোগাযোগ করতে কলেজে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে গোপালগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) গোলাম কবির জানান, সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে গোপালগঞ্জের ঘটনাটি আমার জানা নেই। এমন ঘটনা যদি ঘটে তাহলে কোর্টের মাধ্যমে কোনো নির্দেশনা আসে তখন আইনগতভাবে তদন্তের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

আরো দেখুন......