1. admin@dailyoporadhonusondhanltd.net : admin :
শিরোনামঃ
শেখ ফজলুল হক মনি স্মৃতি সংসদ কর্তৃক আয়োজিত পিকনিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকু’র শুভেচ্ছা বিনিময় চট্টগ্রামে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম কে অ্যাম্বুলেন্স প্রদানে পিএইচপি ফ্যামিলি আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিক বরাদ্দ। বঙ্গলতলি বোধিপুর বন বিহারে ১০তম মহা সংঘদান উদযাপন শেরপুরে অপহরণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার “পরিমার্জিত কারিকলম দক্ষতা অর্জনে শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই”-আদর্শ শিক্ষক ফোরামের শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন- জাতীয় দৈনিক সমকালে ‘বড় বোঝা হৃদয়ের ছোট্ট কাঁধে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ ,পেলেন ভ্যানগাড়ী।। আমতলীতে গরুসহ চোর গ্রেপ্তার সিএমপি, পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের ইপিজেড থানার দ্বিবার্ষিক পরিদর্শন সম্পন্ন।

শত অভিযোগেও বহাল তবিয়তে আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক

  • আপডেট সময়ঃ রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ৬২ জন দেখেছেন

টি আই, মাহামুদ,জেলা প্রতিনিধি (বান্দরবান) বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান  সহকারী কাম হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, শিক্ষক নিয়োগে অবৈধ পন্থা অবলম্বন, অসভ্য আচরনসহ শত অভিযোগেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।

 

বদলি, ডেপুটেশন, পি আর এল ও  পেনশন, নিয়োগ বাণিজ্য, মেরামতসহ সকল কাজের কমিশন আদায়কারী উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক নাছির উদ্দীনকে ঘুষ না দিলে বদলী,বেতন, বিল,পিআরএল,পেনশন সবকিছু আটকে যায় এক নিমিষে । তার বিরুদ্ধে  ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও নিরব সংশ্লিষ্ট উপরস্থ কর্মকর্তারা। উপজেলার শিক্ষকমহলে দূর্নীতির গড ফাদার হিসেবে পরিচিত নাছির উদ্দিন। তবুও বহাল তবিয়তে এই কর্মচারী।

 

উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫৭ জন শিক্ষকের  অভিযোগের পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালকের নির্দেশের দুইমাস পর বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এডিপিও গত ২৪ জানুয়ারি এ অভিযোগের তদন্ত করেন। এ সময় ৫২ জন শিক্ষক তদন্ত কর্মকর্তার নিকট নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে  লিখিত ও মৌখিক সাক্ষ্য দিলেও নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা।

 

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর উপজেলার ৫৭ জন শিক্ষক গত ১৩ নভেম্বর আলীকদম শিক্ষা অফিসের ইউডিএ নাছিরের বিরুদ্ধে ১৫ টি সুনির্দ্ধিষ্ট  অভিযোগ করলেও অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা না নেওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই কর্মচারী বেড়েছে দাম্ভিকতা।

 

শিক্ষকরা জানান, আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারি কাম হিসাব রক্ষক (ইউডিএ) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বিগত একযুগেরও বেশী সময় ধরে আলীকদম শিক্ষা অফিসে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন  একই কর্মস্থলে থাকার কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের আর্থিক হয়রানী, অশুভ আচরণ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হুমকী-ধমকী, সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক কথাবার্তা এবং দুর্নীতি-অনিয়মে ডুবে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে ইউডিএ নাছিরের অত্যাচারে অতীষ্ট প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারি শিক্ষক সকলেই।

 

অনুসন্ধানে জানা যায় , ২০১১ সালে ইউএনডিপি আলীকদমের দুর্গম কিছু এলাকায় ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করেছিল। এসব বিদ্যালয় ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে জাতীয়করণের পরিকল্পনার উদ্যোগ নেয় পার্বত্য জেলা পরিষদ। উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মচারী হিসেবে  শিক্ষক তালিকা করার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও তথ্য গোপন করে অভিযুক্ত ইউডিএ মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন ‘রাইতুমনি পাড়া সপ্রাবি’তে তার স্ত্রী রিয়াজুল জান্নাত ও তার আপন ভাই মোঃ আব্বাস উদ্দিনকে, ‘পারাও পাড়া সপ্রাবি’তে তার আপন বোন মোতাহারা বেগম কে, বিদ্যামনি পাড়া সপ্রাবি’তে তার ভাগ্নে মোজাম্মেল হককে মেনক্য মেনকক পাড়া সপ্রাবি’তে তার মামাতো ভাই আরিফ উল্যাহকে, শিক্ষক হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে নেন।

গত ১৩ এপ্রিল ২০২২ সালে প্রকাশিত শিক্ষক গেজেটে তারা চূড়ান্তভাবে নিয়োগ লাভ করেন।

একই কায়দায় জ্যোতি বড়ুয়া, উম্মে রুমান রুমি ও লিপিকা শর্মা নামের আরো তিনজন শিক্ষককে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ওই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত দেখিয়ে নিয়োগে সহায়তা করেন ইউডিএ নাছির।

 

তারা কেউ ২০১১ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নের শিক্ষক নন। এসএমসি দ্বারা তারা নিয়োগপ্রাপ্তও নন। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাও নন।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এসব শিক্ষকরা স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্কুল জাতীয়করণ এবং শিক্ষক গেজেটের সময়কাল থেকে ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বও পর্যন্ত ১১ বছর ১০ মাস ১৯ দিন ধরে একদিনের জন্য সেইসব বিদ্যালয়ে হাজির ছিলেন না। শিক্ষক হাজিরা খাতায় নামও নেই তাদের। গত জুন মাস থেকে বিদ্যালয় হতে শিক্ষা অফিসে প্রদত্ত এম.আর ফরমেও এসব শিক্ষকদের নাম নেই।

 

উপজেলার ইউএনডিপির ২০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণ করার জন্য খসড়া গেজেট প্রকাশের পর মন্ত্রাণালয়ে চূড়ান্ত গেজেটের জন্য টাকা দিতে হবে বলে নয় লক্ষ টাকা নেন ইউএনডিপির শিক্ষকদের কাছ থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক নাছির উদ্দিন এমন অভিযোগ করেন  জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষক নিক্সন পালসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক।

 

বিশ্বাইরুং ত্রিপুরা, মরিয়ম বেগম,ঞোচিংহ্লা মারমা বলেন,আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে তার জন্য অধিদপ্তরের  টাকা পাঠাতে হবে। টাকা  না দিলে চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে  বলে আমাদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত চেকে টাকার অংক বসিয়ে নেন নাছির উদ্দিন।

তারা আরও বলেন,  ভয়ে এবিষয়ে কাউকে অভিযোগ করতে পারিনি কারণ অভিযোগ করলে আমাদের চাকরী চলে যাবে।

 

অবসরে যাওয়া এক শিক্ষকের আত্মীয় সুজন চৌধুরী  জানান, পেনশনের টাকা তুলতে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন উপজেলা উচ্চমান অফিস  সহকারী নাছির, দাবীকৃত টাকা না দেওয়ায় নাছির উদ্দিন সার্ভিস বইয়ের কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেন।

বেশ কয়েকবার দেওয়ার পরও হারিয়ে গেছে, এগুলো হবে না আবার দেন বলে হয়রানি করেন এই কর্মচারী। পরে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয় এই নাছির উদ্দিনকে।

সুজন চৌধুরী আরও বলেন, কিছুদিন আগেও মারা যাওয়া এক শিক্ষক পরিবারের কাছে টাকা দাবি করলে, পরিবারের এক সদস্য তা ফেইসবুকে পোস্ট করেন।

 

এক প্রধান শিক্ষক বলেন,দূর্যোগকালীন স্কুলের জন্য ৫ হাজার টাকা করে আসলেও উক্ত টাকা বিদ্যালয়ে না দিয়ে ভুয়া বিলের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে দেন। তাছাড়া তার যোগদানের পর থেকে  এই পর্যন্ত সংস্কারকৃত প্রতিটি বিদ্যালয় সংস্কারকাজের বরাদ্দের টাকা থেকে তার নির্ধারণ করা কমিশন দিতে হয়েছে। না দিলে চরম হয়রানি ও বিল আটকে রাখা হত বলেও জানা যায়।

 

চৈক্ষ্যং মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ বলেন, এই নাছির উদ্দিনের দূর্নীতি লাগামহীন। টাকা না দিলে কাজ হয় না। পুরো অফিসের যেন অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণক এই কর্মচারী। আমি টাকা না দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে  প্রকাশ্যে খারাপ আচরণ ও লাঞ্ছিত করেছেন অনেক বার।

 

উপজেলার চম্পট পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক বলেন, আলীকদমের ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষে আমরা ৫৭জন প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকl

 

শেয়ার করুন

আরো দেখুন......