1. admin@dailyoporadhonusondhanltd.net : admin :
শিরোনামঃ
বাগেরহাট ৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বলইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। রান্নার কাজে ব্যস্ত মা, খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম স্যারকে কেয়া’র পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন (দ্বিতীয় ধাপ) উপলক্ষে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন সংক্রান্তে ব্রিফিং কালাইয়ে চলতি মৌসুমে হিমাগারে আলুর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে চাষীদের মানববন্ধন রাজা তার নিজ বাড়ীতে খাবার খায় না দশ বছর। বদলগাছী ঐতিহাসিক পাহাড় পুর বৌদ্ধ বিহার আন্তজাতিক যাদুঘর দিবস পালিত। শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গরুচোর চাক্রের ৫সদস্য গ্রেপ্তার আমতলীতে মহাসড়কের দু’পাশে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে আবুল কাশেম রাজের দোয়াত কলম মার্কা

আলীকদমে ম্যালেরিয়া নির্মূলে স্বাস্থ্য বিভাগের গবেষণা ও অবহিতকরণ সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

  • আপডেট সময়ঃ সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০২৪
  • ২৪৭ জন দেখেছেন

টি আই মাহমুদ,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:-

বান্দরবানের আলীকদমে পর্যায়ক্রমে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সারা দেশের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় এখনো ম্যালেরিয়ার প্রকোপ রয়েছে।
এর মধ্যে বিশেষ করে বান্দরবান জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলায় ম্যালেরিয়া সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এজন্য ম্যালেরিয়া নিয়ে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় গবেষণা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও প্রধান গবেষক অধ্যাপক মো. আবুল ফয়েজ।

আজ সোমবার (১এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭ ঘটিকার সময় নয়াপাড়া ইউনিয়নের রূপমুহুরী রিসোর্টে আয়োজিত ‘ম্যালেরিয়া নির্মূলে গবেষণা (এমবিডিএ): সবার জন্য টিকা এবং সবার জন্য ওষুধ’ শীর্ষক অবহিতকরণ ও প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান সিভিল সার্জন বান্দরবান এর সভাপতিত্বে ও আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পরিচালক ডাঃ মোঃ মাহতাব উদ্দিন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোঃ আবুল ফয়েজ, সাবেক মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রধান গবেষক এবং স্হানীয় সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক মো. আবুল ফয়েজ জানান, চলমান সেবার মধ্যে থাকবে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য কীটনাশকযুক্ত মশারি এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া থাকবে বাড়ির কাছের স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে দ্রুত ম্যালেরিয়া নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীকে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেয়া।

অধ্যাপক মো. আবুল ফয়েজ জানান, ম্যালেরিয়া নির্মূলে চলমান সেবার পাশাপাশি সবার জন্য ‘ম্যালেরিয়ার টিকা এবং ওষুধ’ প্রয়োগ হতে পারে যুগোপযোগী পদক্ষেপ। সে লক্ষ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলে নতুন টিকার কার্যকারিতা নিয়ে একটি গবেষণার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ গবেষণায় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত টিকা ব্যবহার করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত এ টিকা এরই মধ্যে ৭৭ শতাংশ উচ্চ কার্যক্ষমতা আছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটি ম্যালেরিয়ার জন্য উদ্ভাবিত দ্বিতীয় টিকা। এটি উৎপাদন করেছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট। ওষুধ হিসেবে ডিএইচএ পাইরাকুইন ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, ‘গবেষণাটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১০০টি মহল্লার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে নির্বাচিত করা হবে। পরে দৈবচয়নের মাধ্যমে সমানভাবে চারটি ক্লাস্টার বা গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রথম গ্রুপে ২৫টি মহল্লার সবার জন্য ম্যালেরিয়ার টিকা এবং ওষুধ উভয়ই প্রদান করা হবে।

অধ্যাপক মো. আবুল ফয়েজ জানান, গবেষণায় জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি, সিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ডেভ কেয়ার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ব্র্যাক, সিআইপিআরবি, মাহিদল অক্সফোর্ড রিসার্চ ইউনিট, ব্যাংকক, থাইল্যান্ড ও জেনার ইনস্টিটিউট, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য সম্পৃক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর তথ্য অনুযায়ী বিগত ২০২২ সালে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা ৪০২৩ জন , ২০২৩ সালে ২৩৩৫ জন এবং ২০২৪ সালের চলতি মাস পর্যন্ত ৯৯ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান গেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানা যায়, ম্যালেরিয়াবাহী মশার কামড় ও ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচার জন্য বর্তমানে কীটনাশকযুক্ত মশারী ব্যবহার, দ্রুত ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা নেয়া এবং স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদানের মতো কার্যক্রম চলছে। এই চলমান সেবা দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিজ্ঞানিদের মতে, ম্যালেরিয়া নির্মূলে চলমান সেবার পাশাপাশি সবার জন্য ম্যালেরিয়ার টিক। এবং ঔষধ প্রয়োগ হতে পারে যুগোপযোগী পদক্ষেপ। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ম্যালেরিয়া মুক্ত করতে, ম্যালেরিয়া নির্মূলের জন্য নতুন টিকার কার্যকারিতা নিয়ে “সবার জন্য টিকা এবং সবার জন্য ঔষধ প্রয়োগে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধের কার্যকারিতা যাচাই করা নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এই গবেষণায়, ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ থেকে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত দ্যা আর টুয়েন্টি ওয়ান ম্যাট্রিক্স-এম ম্যালেরিয়া ভ্যাক্সিন (The R21/Matrix-M Malaria Vaccine) প্রয়োগ করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক অনুমোদিত এই টিকার ইতোমধ্যেই ৭৭% উচ্চ কার্যক্ষমতা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটি ম্যালেরিয়ার জন্য উদ্ভাবিত ২য় টিকা এবং এটি উৎপাদন করছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট।

পার্বত্য অঞ্চলসহ, সমগ্র দেশ থেকে ম্যালেরিয়াকে বিদায় করতে টিকার কার্যকারিতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ গবেষণায় কমিউনিটি সম্পৃক্ততার জন্য ব্যাপক কার্যক্রম রয়েছে। গবেষণাটি বাস্তবায়নের জন্য বান্দরবান জেলার লামা এবং আলীকদম উপজেলার ১০০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে নির্বাচিত করা হবে এবং এই ১০০টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষকে দৈবচয়নের মাধ্যমে সমানভাবে মোট চারটি ক্লাস্টার বা গ্রুপে ভাগ করা হবে।

১ম গ্রুপের ২৫টি গ্রামের সকলকে ম্যালেরিয়ার টিকা এবং ঔষধ উভয়ই প্রদান করা হবে। ২য় গ্রুপের ২৫টি গ্রামের সকলকে শুধুমাত্র ম্যালেরিয়ার টিকা প্রদান করা হবে। ৩য় গ্রুপের ২৫টি গ্রামের সকলকে ম্যালেরিয়ার ঔষধ প্রদান করা হবে। ৪র্থ গ্রুপের ২৫টি গ্রামে ম্যালেরিয়ার চলমান সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই চারটি গ্রুপেই চলমান সেবা অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

আরো দেখুন......