1. admin@dailyoporadhonusondhanltd.net : admin :
শিরোনামঃ
প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও কুরবানীর সমস্ত গোশত গরিব দুঃখী অসহায় মানুষদের মাঝে অকাতরে বিলিয়ে দিলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের বনগ্রাম বাজার, জলিরপাড়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী শেখ মোঃ জিন্নাহ।। এবারও চসিকে কোরবানির বর্জ্য পরিস্কার -পরিচ্ছন্নতায় শীর্ষে দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড শিবগঞ্জে ভ্যান চালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হারুন অর রশিদ ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মংপ্রু মার্মার পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন, আয়েরও কোন উৎস নেই ঝিনাইদহ চেক পোস্টে ২৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক কালাইয়ে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে পশুর হাট। *মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা-২০২৪ উপলক্ষে ৫০ টি দুস্থ পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম।* এলজিইডি’র বাস্তবায়নে মুকসুদপুরের বিলচান্দা গ্রামের মানুষ শহরের সুবিধা পেতে চলেছে সাগরিকা ও হালিশহর বড়পুল মহেশখাল পাড়স্থ পশুর হাট পরিদর্শনে সিএমপি পুলিশ কমিশনার “সাংবাদিকতা সংক্রান্ত নেতিবাচক লেখাগুলো ফেসবুকে প্রচার বন্ধ হোক”- “সাইদুর রহমান রিমন”। 

প্রথমপর্ব

  • আপডেট সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৭৮ জন দেখেছেন

তাওহীদে আদিয়ান-হাকিম মওলানা মুহম্মদ ইকবাল ইউসূফ:

১) এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসুল (আ.), তাঁদের খলীফাগণ বা তাদের সাহাবীদের কেউই কখনো কাফেরদের সাথে কথাবার্তা বা আদান-প্রদান বন্ধ করেননি। সব নবী- রসুলই কাফেরদের কাছে সত্য প্রচার করতে এসেছিলেন। তাঁরা যদি কাফেরদের সাথে কথাবার্তা না বলতেন বা তাদের কে বয়কট করে রাখতেন অথবা তাদের সাথে মেলামেশা ও বন্ধুসুলভ আচরণ না করতেন তাহলে তাদের আবির্ভাবের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যেত।

 

২)ইহুদীগণ হজরত উযাইর (আ.) কে আল্লাহ পুত্র, হজরত মরিয়ম (আ.) কে ব্যাভিচারিণী এবং হজরত ঈসা (আ.)-কে জারজ সন্তান বলে মনে করে (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিকা)। তারা কুরআন শরিফকে এবং মহানবী হজরত মুহম্মদ (দ.)-কে মিথ্যা বলে মনে করে (নাউযুবিল্লাহ)। খ্রিস্টানদের একাংশ হজরত মরিয়ম (আ.) আর হজরত ঈসা (আ.)- কে ঈশ্বর বলে বিশ্বাস করে আবার আরেক দল খ্রিস্টান হজরত জিব্রাইল (আ.) এবং হজরত ঈসা (আ.)- কে খোদা বলে মান্য করে।

 

একইসাথে, তারা কুরআন শরিফ ও মহানবী (দ.) কে মিথ্যা বলে প্রচার করে। এ ধরনের কাফের তথা ইহুদী খ্রিস্টানদের বিষয়ে সূরা মায়েদায় বলা হয়েছে, আহলে কিতাব এর রান্না করা খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং আহলে কিতাবের সতী-সাধ্বী নারীদের সাথে বিয়ে করা তোমাদের জন্য বৈধ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’লা ইরশাদ করেন- ‘আল ইয়াওমা উহিল্লা লাকুমুত তাইয়্যেবাতু ওয়া তাআমুল্লাযীনা উতুল কিতাবা হিল্লুল লাকুম ওয়া তাআমুকুম হিল্লুল লাহুম ওয়াল মুহ্সানাতু মিনাল মু’মিনাতি ওয়াল মুহসানাতু মিনাল্লাযীনা উতুল কিতাবা মিন কাবলিকুম (সূরা মায়েদা: ৬)।

 

উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে, এমন ইহুদী ও খ্রিস্টান নারী যাদের ধর্মীয় বিশ্বাস পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা যদি নোংরা চরিত্রের অধিকারী না হয় বরং পবিত্র জীবনাচরণে অভ্যস্ত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে মু’মিন-মুসলমান পুরুষরা তাদের সাথে বিয়ে করতে পারে। যে ব্যক্তি উপরোক্ত আয়াতের শিক্ষানুযায়ী পূর্বে উল্লেখিত ধর্মীয় বিশ্বাস পোষণকারী ইহুদী অথবা খ্রিস্টান নারীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে।

 

বলা বাহুল্য, সে কাফের স্ত্রীর রান্না করা খাবার খাবে, তাকে দিয়ে কাপড় ধোয়াবে, তার সাথে প্রেমপ্রীতি ও ভালবাসার বন্ধন অটুট রাখবে। তার আত্মীয়-স্বজনদের সাথেও সম্প্রীতির বন্ধন রচনা করবে আর সাধ্যানুযায়ী তাদের আতিথেয়তা ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করবে। নিজের কাফের স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের সুখ-দুঃখে অংশীদার হবে আর নিজ সুখ-দুঃখে তাদেরকে আহবান করবে। তা না হলে এদের দাম্পত্য জীবন কলহ-তিক্ততার শিকার হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে।

 

ওয়া তাআমুল্লাযীনা উতুল কিতাবা হিল্লুল লাকুম- এর বাক্যটি স্পষ্ট বলে দিচ্ছে, জাগতিক ও বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাফেরদের সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক অনেক বেশি গাঢ় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হওয়া উচিত। এ সম্পর্ক এত ভাল হতে হবে যার ফলে মুসলমানরা কাফেরদের বাড়িতে যাবে, তাদের বিয়ে ও অন্যান্য নিমন্ত্রণ ও অনুষ্ঠানাদিতে অংশগ্রহণ করবে। একইভাবে কাফেররাও মুসলমানদের বাড়িতে আসবে, এদের বিয়ে এবং অন্যান্য আনন্দঘন অনুষ্ঠানাদিতে অংশ নেবে আর বিভিন্ন দাওয়াতে যোগদান করবে।

 

যখন সম্পর্ক এমন হৃদ্যতাপূর্ণ হবে, কেবল তখনই এ বিষয়ে প্রশ্ন দাঁড়াতে পারে, মুসলমানরা যখন ইহুদী খ্রিস্টানদের কাছে যাবে, আর তারা এদেরকে চা-নাস্তা বা খাবার পরিবেশন করবে, তখন মুসলমানদের জন্য কী করণীয়? আল্লাহ পাক বলেছেন ‘ওয়া তাআমুল্লাযীনা উতুল কিতাবা হিল্লুল লাকুম’ আহলে কিতাব জাতির প্রস্তুতকৃত খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল।

 

মুসলমানরা যদি ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সাথে কথাবার্তাই না বলে, তাদের সাথে জাগতিক সুসম্পর্ক না রাখে, তাদের সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে যোগদানই না করে, তাহলে কুরআন শরিফে বর্ণিত এ বাক্যটিই অহেতুক প্রতীয়মান হবে। মুসলমানরা যখন ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সাথে বন্ধুত্ব রাখবে, আর কাফেররা এদের কর্মক্ষেত্রে, বসতবাড়িতে যাতায়াত করবে, কেবল তখনই প্রশ্ন হবে- কাফেরদের মেহমানদারী, চা-নাস্তা, খাবার খাওয়ানো বৈধ হবে কি না। এর উত্তরে আল্লাহ্ বলছেন, ‘ওয়া তাআমুকুম হিল্লুল লাহুম’ তোমাদের প্রস্তুতকৃত খাবার তাদের জন্য বৈধ।

 

৩) ধর্মের জন্য নবীদের চেয়ে বেশী অন্য কারো আত্মাভিমান থাকার কথা না। ধর্মের বিষয়ে আমাদের আত্মাভিমান নবীদের দৃষ্টান্ত অনুযায়ী হওয়া চাই। অতএব আল্লাহ তা’লা নবীদের বিষয় বর্ণনা করার পর বলেন, ‘উলাইকাল্লাযীনা হাদাল্লাহু ফাবিহুদাহুমুকতাদিহ’ (সূরা আনআম: ৯১)। অর্থাৎ এরাই তাঁরা যাদেরকে আল্লাহ তা’লা হেদায়ত দিয়েছিলেন। অতএব তোমরা তাঁদের হেদায়ত, আদর্শ অনুসরণ কর। আবার সূরা ইউসুফের শেষ আয়াতে আল্লাহ তা’লা বলেন, ‘লাকাদ কানা ফী কাসাসিহিম ইবরাতুল্লি উলিল আলবাব।’ অর্থাৎ নিশ্চয়ই নবীদের ঘটনাবলী ও বৃত্তান্তের মাঝে বুদ্ধিমানদের জন্য এক মহান শিক্ষা নিহিত।

 

এই নীতি বর্ণনা করে কুরআন আমাদেরকে অবগত করছে, হজরত নূহ (আ.), হজরত লুত (আ.) দু’জনই নবী ছিলেন আর তাদের উভয়ের স্ত্রী কাফের (তথা অবিশ্বাসী) ছিলেন (সূরা তাহরীম: ১১)। এতদসত্তে¡ও তাঁরা উভয়ে আপন স্ত্রীর সাথে কথাবার্তা বলা বন্ধ করেননি, তাদেরকে বয়কট করেননি। আর আল্লাহ তা’লা এই দুই নবীকে তাঁদের কাফের স্ত্রীর সাথে এমন ব্যবহার করার নির্দেশনা দেননি। স্ত্রীর রান্না করা খাবার তাঁরা খেতেন। কাফের স্ত্রীরাই তাঁদের খাবার রান্না করতেন, বাসন পরিষ্কার করতেন, নবীদের কাপড় ধুয়ে দিতেন, তাদের জন্য বিছানা প্রস্তুত করতেন।

 

হজরত নূহ (আ.) আল্লাহর নবী ছিলেন। তাঁর আপন পুত্র কাফের ছিল। হজরত নূহ (আ.) নিজ পুত্রকে ত্যাজ্য করেননি, বাড়ি থেকে বের করে দেন নি, তার সাথে রূঢ় আচরণ করেননি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তুফান থেকে বাঁচানোর জন্য তাকে নিজের নৌকায় আসতে আহবান জানিয়েছেন। তুফান এলে হজরত নূহ (আ.) নিজের কাফের ছেলেকে বললেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! এসো, আমার সাথে নৌকায় আরোহী হয়ে যাও (সূরা হুদ: ৪৩)। লক্ষ্যণীয়, তিনি সন্তানকে শুধুমাত্র আমার পুত্র নয় বরং আমার প্রিয় পুত্র বলেছেন।

শেয়ার করুন

আরো দেখুন......