1. admin@dailyoporadhonusondhanltd.net : admin :
শিরোনামঃ
র‌্যাব-৭,চট্রগ্রাম’র অভিযানে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় “যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত” আসামি মোঃ সুমন গ্রেফতার।  বাঘায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত এক ,গুরুতর আহত দুই। আমতলীতে হিরন হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন মৃধা গ্রেপ্তার  সাজেকে কাচালং নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বিঝু উৎসবের সুচনা পুলিশি তৎপরতা ও আন্তরিক ভূমিকায় মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) মহিলার বাচ্চা প্রসবে সহযোগিতা । ভোটারদের টাকা দিতে বাঁধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে চেয়ারম্যান সমর্থককে হত্যা। শেরপুর পুলিশ লাইন্সে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত শিকড় ঝিনাইগাতীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সেবক, কামরুজ্জামান (বাবলু কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির (সদস্য) জামালপুরের সানন্দবাড়ীতে অসকস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী উপহার হতদরিদ্রদের

ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, ভালো দামে স্বস্তিতে কৃষক

  • আপডেট সময়ঃ সোমবার, ২৯ মে, ২০২৩
  • ৯৩ জন দেখেছেন

মোহাম্মদ মিলন আকতার , ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে মাঠ থেকে বোরো ধান সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো এবং গত মৌসুমের তুলনায় এই মৌসুমে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি হয়েছে জেলার কৃষক।

কৃষকরা বলছেন, তেমন বড় কোনো ঝড় বৃষ্টি ও দুর্যোগ না হওয়ায় ধানের ফলনের গতবছরের তুলনায় এবার একর প্রতি ৫-১০ মণ করে ফলন বেশি হয়েছে। কারও কারও বিঘায় ৫০-৬০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। আর বর্তমানে ৮০ কেজির এক বস্তা কাঁচা ধান ১৭শ থেকে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে তাদের খরচ হয়েছে ২৪-২৬ হাজার টাকা আর বিক্রয় করছেন ৪২ থেকে প্রায় ৪৬ হাজার টাকা। তাই এবার তারা ফলন ও দামে সন্তুষ্ট।

মাঠেই ধান মাড়াই করে আবার মাঠেই ধান বিক্রয় করছিলেন সদর উপজেলার     আক্চা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের ধান চাষি পুলোনধর পাল। তিনি  বলেন, এবার আমাদের ৫০ শতকের এক বিঘা জমিতে ধান হয়েছে ৫০ মণ করে। আর প্রতি মণ ধান বিক্রয় করলাম ৯০০ টাকা করে। তাতে এক বিঘা জমির ধানের মূল্য পেয়েছি ৪৬ হাজার টাকার ওপরে। ধান চাষ করতে এক বিঘা জমিতে সর্বমোট খরচ হয়েছে প্রায় ২৪-২৬হাজার টাকা। এতে লাভ থাকতেছে প্রায় ১৮-২০হাজার টাকা।

চাষি প্রতুল বর্মন বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের দাম ও ফলন দু’টোই ভালো পেয়েছি। গত বারে ধান বিক্রয় করেছিলাম ১৫শ টাকা বস্তা। এবার প্রথম দিকে ১৯শ-২১শ টাকা ধানের বস্তার দাম ছিল, এখন একটু কমে গেছে। ২৯ জাতের ধান আমার একবিঘা জমিতে ৪৮ মণ করে ফলন হয়েছে। তাই ফলনে ও দামে আমরা খুশি।

মাঠে ধানের খড় শুকানোর কাজ করছিলেন কৃষক হরিদাস। তিনি বলেন, আমি সরিষা কেটে সবার পরে ধান লাগিয়েছিলাম। আবার সবার আগে ধান কেটে বিক্রয় করেছি। আল্লাহর রহমতে এবার ধানের ফলন ও দাম ভালো পেয়েছি। আগামীতে আবার দেড় একর জমিতে সরিষা করে বোরো ধান চাষ করব।

চাষি মকবুল হোসেন বলেন, এখন ধান রোপণসহ কাটা মাড়াই করছি আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন দিয়ে। এতে করে এক সঙ্গে ধান কাটা মাড়াই ও বস্তা হয়ে যাচ্ছে। তাতে এখন আগের থেকে আমাদের কাজ করতে পরিশ্রম ও কষ্ট কমে গেছে।

বগুড়া  থেকে এসেছেন হারভেস্টার চালক রুবেল ইসলাম। তিনি বলেন,  এখনো মাঠে সব কৃষকের ধান পাকেনি। তাই দিনে ১০-১২ বিঘা জমির ধান হারভেস্টার দিয়ে মাড়াই করছি। সব ধান পেকে গেলে দিনে ২০-২৫বিঘা জমির ধান মাড়াই করতে পারবো। বর্তমানে দূরত্ব ও স্থান ভেদে এক বিঘা জমির ধান মাড়াইয়ে ৪-৫ হাজার টাকা নিচ্ছি।

জেলা কৃষি অফিসের মতে, জেলায় এবার বোরো মৌসুমে ৬০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে ৬১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫% জমির ধান কাটা হয়েছে। এতে পার হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৬ টন করে ফলন হয়েছে। গতবছরের চেয়ে এবার প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

 

ব্যবসায়ী আক্তারুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, গতবারের তুলনায় এবার ধানের বস্তা প্রতি ২শ-৪শ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কাঁচা ধানের বস্তা ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা দরে ক্রয় করছি। তবে এর থেকে দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম  বলেন, সরকারি প্রণোদনার আওতায় জেলার কৃষকদের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এবার বোরো মৌসুমে হাইব্রিড ধানে ১৫ হাজার কৃষককে ও উপশী জাতের ধানে ১০ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ধান চাষে সকল কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভোর্তূকিমূল্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা দ্রুত সময়ে ফসল রোপণ ও কর্তন করতে পারচ্ছেন এবং খরচের দিক থেকেও তারা লাভবান হচ্ছে। যত বেশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বৃদ্ধি হবে ততো বেশি কৃষক লাভবান হবেন। তাই কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অব্যাহত রেখেছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, এবার পার হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৬ টন করে বোরো ধানের ফলন হয়েছে। তাই আশা করছি ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে।

শেয়ার করুন

আরো দেখুন......